সৈয়দ আনসার মোহাম্মদ মোখ্তার
সাহিত্য ও সংস্কৃতি
সৈয়দ আনসার মোহাম্মদ মোখতার ৮ জানুয়ারী, ১৯৩৯ সনে নাসিরনগরের গোকর্ন গ্রামের সম্ভান্ত্র সৈয়দ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সৈয়দ আবুল খায়ের। পূর্ব পুরুষের আদি নিবাস ছিল নবীনগর থানার কাইতলা গ্রামে। তিনি শাহ সৈয়দ নাসির উদ্দিনের বংশধর।
জনাব মোখ্তার শৈশবে গ্রামের পাঠশালা ও মক্তবের পড়াশোনা শেষে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় হতে প্রবেশিকা পরীক্ষা পাশ করেন। পরে ঢাকায় অধ্যায়ন করেন।
জনাব মোখতার ১৯৫৭ সন হতে ১৯৯১ সন পর্যনত্ম বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থায় তিন বছর, পি আই এ তে বার বছর ও বাংলাদেশে বিমানে ১৯ বছর সহ মোট পঁয়ত্রিশ বছর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৯১ সনের মার্চ মাসে বাংলাদেশ বিমানের ম্যানেজার, ইন্ড্রাষ্ট্রিয়াল রিলেশনস পদে অধিষ্ঠিত থাকাকালীন †¯^”Qvq অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৬৪ হতে ১৯৬৯ পর্যনত্ম গনচীনের ক্যান্টনে ও ফিলিপাইনের ম্যানিলায় পি আই এর এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারী হিসাবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭২ সালে তিনি পাকিসত্মানে কর্মরত অবস্থায় সেখান থেকে পালিয়ে কোয়েটা, চমন, কান্দাহার, কাবুল, দিল্লী, কলিকাতা হয়ে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি বাংলাদেশ বিমানে যোগদান করেন।
সৈয়দ মোখতার ১৯৬৯ সনে তদানিনত্মন পাকিসত্মান পি আই এর কর্মচারীগণ কর্তৃক একশন কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে বলিষ্ঠ ও কার্যকরী নেতৃত্বের ¯^v¶i রাখেন। তিনি বাংলাদেশ বিমানে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। চাকুরী কালে তিনি তার সচ্চরিত্র, সততা, আনত্মকিতা, বিরল কর্মদক্ষতা, সৃষ্টিশীল প্রতিভা ও পরোপকারের জন্য খ্যাতি ছিলেন। সৈয়দ এ এম মোখতারকে ফুটবলের যাদুকর/ ওসত্মাদ বলা যায়। তিনি ১৯৫১ হতে ১৯৭৬ সাল পর্যনত্ম অত্যনত্ম কৃতিত্ত্ব, নৈপূণ্য ও দাপটের সাথে ফুলব্যাক তথা রক্ষণ ভাগের প্রধান দায়িত্বশীল ও স্থিরধীর খেলোয়াড় হিসাবে সুপ্রসিদ্ধ ছিলেন। উপেন শাহার পর ঢাকা স্টেডিয়াম মাঠে তাঁরমত এত j¤^v ও নয়নভোলা কিক খুব কমই দেখা গেছে। তিনি ঢাকা প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগে আজাদ স্পোটিং ক্লাব টিমের সদস্য হিসাবে ১৯৫৯ হতে ১৯৬৩ সন পর্যনত্ম ফুলব্যাক হিসাবে নিয়মিত খেলেছেন। তিনি পাকিসত্মান পি আই এ ১১এ তদানিনত্মন পূর্ব পাকিসত্মান পি আই এ হতে একমাত্র খেলোয়ার হিসাবে ১৯৬২-৬৩ সনে ঢাকা ষ্টিডিয়ামে খেলেছেন। তিনি চীন কর্মরত থাকাকালীন সেদেশে নিয়মিত খেলেছেন। ১৯৭০ সনে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় পশ্চিম জার্মানীর জাতীয় দলের বিপক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইনাল খেলায় ফিলিপাইনের জাতীয় দলের একজন হিসাবে খেলেছেন। তিনি বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থায় চাকুরীকালে এর ফুটবল টিমের দলনেতা (ক্যাপটেন) ছিলেন। ১৯৭৬ সনে ফুটবল খেলা থেকে অবসর নেন।
সৈয়দ মোখতার পবিত্র কোরআন ও হাদিসবিজ্ঞ-তাত্ত্বিক, দার্শনিক, আনত্মর্জাতিক বা বিশ্ব ইসলাম প্রচারক হিসেবে সর্বজনবিদিত। ১৯৭২ সনে তার নিজস্ব রচনা জাতীয় পত্র প্রত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয় এবং পুসত্মকাকারে পরবর্তীতে বাংলা ও ইংরেজীতে প্রকাশিত হয়। তার প্রকাশিত ইংরেজী গ্রন্থের নাম “ দি স্যালভেশন ”। বাংলা গ্রন্থগুলোর নাম, “ ব্যাভিচারের পরিনাম ” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত) “ নুরে আখলাক ” “ ধর্ম জ্ঞানই মূলধন ” এবং প্রকাশের পথে “ দ্বীন ও ঈমান ” “ মাকামাত ও দারাজাত ” “ ধন লিপ্সার পরিণাম ” ও প্যানাসিয়া ইত্যাদি। তিনি একমাত্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ছাড়া র্ম, দর্শন, শিল্প কলা, ব্যবস্থাপনা, প্রশাসন, রাষ্ট্র ও সমাজ বিজ্ঞান, সনসত্মত্ব, আইন ইত্যাদি বিষয়ে প্রচুর থিওরী ও থিসিস রচনা করে রেখেছেন।
উল্লেখ্য যে, আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত “ ইন্টারন্যাশনাল ইনষ্টিটিউট অব ইসলামিক থট ” নামক বিশ্ব সংস্থার প্রেসিডেন্ট ডঃ ত্বহা জাবির আল আলওয়ানী সৈয়দ মোখ্তারকে লিখিত পত্রে তাঁর রচনাকে আলৌকিক বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং তার সুতীক্ষ, বিচক্ষণ ও অনুপ্রেরণাদায়ক লেখনির দ্বারা বিশ্ব মুসলিম উম্মাকে দিক নিদেশনা প্রদান করার ঐকানিত্মক অনুরোধ জানিয়েছেন।
আনত্মর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শান্ত্রীয় সঙ্গীতজ্ঞ ও উচ্চাঙ্গ কণ্ঠ শিল্পী সৈয়দ মোখতার রেডিও বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে একজন উচ্চ শ্রেণীর নিয়মিত কণ্ঠ শিল্পী। তার প্রতিভা, কৃতিত্ব ও অবদানের বিষয়ে ১৯৮৫ সনে জাতীয় সমপ্রচার কর্তৃপক্ষের বেতার প্রকাশনা দফতর কর্তৃক প্রকাশিত “ বেতার বাংলা ” নামক সাময়িকীতে বাংলাদেশের সংগীতাংগনে ওসত্মাদ সৈয়দ মোখ্তার একটি বিশিষ্ট নাম বলে উল্লেখ করেছেন। উচ্চাঙ্গ সঙ্গিতের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ সুর শিল্পী হিসাবে তার কন্ঠের সুর এবং প্রক্ষেপন এক অপরূপ শৈল্পিক ব্যঞ্জীর সৃষ্টি করে দেশের সঙ্গীত ভুবনকে ঐশ্বর্যশালী করেছে বলে তাতে মনত্মব্য করা হয়েছে। সৈয়দ মোখতারের সঙ্গিত গুরু ছিলেন ওসত্মাদ আবদুল আজিজ খান (বাংলাদেশ) ওসত্মাদ জ্ঞানী করম সিং রসিয়া (ভারত) ও ওসত্মাদ গোলাম হায়দার খান।
ওসত্মাদ সৈয়দ মোখতার বিভিন্ন সময় হংকং, পিকিং, ম্যানিলা, আফগানিস্থান, পাকিসত্মান ও ভারতের বিভিন্ন স্থানে, জাপানের টোকিওতে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত পরিবেশন করে ভূয়শী প্রশংসা ও সুনাম অর্জন করেছেন। তিনি ধ্রুপদ, খেয়াল, ঠুমরি, টম্পা তারানা, দাদরা, গীত, গজল, কাওয়ালী, আধুনিক গান (বাংলা, হিন্দি, উর্দু, চীনা ও ফার্সিতে) ছায়া ছবির গান পরিবেশন করে থাকেন। মোখতার একজন নিপুন পাকোয়াজ, তবলা, হারমনিয়াম, একডিয়ন ও অরগ্যান বাদক। তিনি ‘নিষ্কপুষ সঙ্গীতের তাৎপর্য নামক একটি সঙ্গীতের পুসত্মকও রচনা করেছেন।
বিশ্ব মুসলিম সংস্থা রাবেতায়ে আলম আল ইসলামীর প্রাক্তন সেক্রেটারী জেনারেল ডঃ মোহাম্মদ আলী আল হারাকান কর্তৃক তাকে, “ হযরত আল মুকাররম আল ওসত্মাদ মুহতারাম ” হিসেবে m‡¤^vab করা হয়েছে।
সৈয়দ মোখতার ১৯৬১ সনে কিশোরগঞ্জ জেলার সৈয়দ মোঃ খলীল উল্লাহ সাহেবের জৈষ্ঠ্যা কণ্যা সৈয়দা জাহেদা আখতার বেবীর সংগে পরিণয় সুত্রে আবদ্ধ হন। তাদের তিন মেয়ে ও দুই ছেলে সবাই সুপ্রতিষ্ঠিত।
গৌরবপূর্ণ জীবনের প্রতিটি অধ্যায় থেকে †¯^”Qvq অবসর গ্রহণ করে বর্তমানে তিনি মানব সভ্যতার প্রাগৈতিহাসিক ও ঐতিহাসিক সময়কাল থেকে বর্তমান সময় কাল পর্যনত্ম ধারাবাহিক ইতিহাস রচনা করে চলেছেন। সৈয়দ মোখতার নাসিরনগর থানা সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তিনি অনেকদিন যাবৎ সমিতির কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও সহসভাপতির দায়িত্বে অধিষ্ঠিত ছিলেন।